এনআইডি তথ্য বিক্রি: ইসির দুই কর্মী গ্রেপ্তার, ১১ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সার্ভার থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের এনআইডি তথ্য বিক্রি করে প্রায় ১১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইসির দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রাজধানীতে পৃথক অভিযানে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিআইডির কর্মকর্তারা। গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইন ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইনে আগের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন আগারগাঁওয়ের জাতীয় নির্বাচন কমিশনে কর্মরত ডাটা এন্ট্রি অপারেটর (আউটসোর্সিং) মো. আলামিন (৩৯) এবং মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. হাবীবুল্লাহ (৪১)।

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবুল বাশার তালুকদার জানান, বুধবার রাতে নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় আগারগাঁও নির্বাচন অফিস থেকে আলামিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকা থেকে হাবীবুল্লাহকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে দুটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

সিআইডির তথ্যমতে, আলামিনের কাছে একটি গোপন আইডি ও পাসওয়ার্ড ছিল, যার মাধ্যমে সারা দেশের এনআইডি তথ্য যাচাই করা যেত। সেই আইডি ও পাসওয়ার্ড তিনি হাবীবুল্লাহকে দেন। বিনিময়ে প্রতি সপ্তাহে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা নিতেন তিনি।

হাবীবুল্লাহ ওই আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংগ্রহ করতেন এবং ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় তা বিক্রি করতেন। তদন্তে দেখা গেছে, ওই আইডি দিয়ে এক সপ্তাহে এক লাখের বেশি এবং এক মাসে তিন লাখেরও বেশি এনআইডি তথ্য দেখা হয়েছে।

সিআইডি জানায়, এসব তথ্য বিক্রি করে হাবীবুল্লাহ প্রায় ১১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ওই অর্থ দিয়ে তিনি ঢাকায় ফ্ল্যাটসহ বিভিন্ন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অর্জন করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এনআইডির এসব তথ্য বিভিন্ন ধরনের প্রতারণায় ব্যবহার করা হচ্ছিল। মোবাইল নম্বর ক্লোন করে অসুস্থতার অজুহাতে টাকা আদায়, কণ্ঠ নকল করে বিদেশে আটকে পড়ার গল্প সাজানো এবং মোবাইল ব্যাংকিং সেবাভিত্তিক প্রতারণায় এসব তথ্য ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজনই স্বীকার করেছেন যে, দীর্ঘদিন ধরে ওটিপি ট্রান্সফার ও যোগসাজশের মাধ্যমে এনআইডির মূল সার্ভারে প্রবেশ করে তথ্য সংগ্রহ ও বিক্রি করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

Insights News Desk

National

শেয়ার করুন

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *