চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলি, চাঁদা না দেওয়ায় হামলা

চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলি, চাঁদা না দেওয়ায় হামলার অভিযোগ

চট্টগ্রাম নগরে এক শীর্ষ ব্যবসায়ীর বসভবন লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়েছে। শুক্রবার সকালে নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার হয়েছেন স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমান। ওই সময় ব্যবসায়ী এবং তার পরিবারের সদস্যরা বাসায় ছিলেন। তবে গুলিতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বিদেশে পলাতক ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের নির্দেশে তার অনুসারীরা এই হামলা চালিয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মুজিবুর রহমান ২০২৪ সালের নির্বাচনে চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। স্মার্ট গ্রুপ একটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী। মুজিবুর রহমানের বিনিয়োগ রয়েছে পোশাক, টেক্সটাইল, রিয়েল এস্টেট ও জ্বালানি খাতে।

নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া জানান, সকাল সাতটার দিকে একটি মাইক্রোবাসে করে আটজন মুখোশধারী মুজিবুর রহমানের বাড়িতে এসে গুলি চালায়। তাদের গুলির ধারা বাড়ির গেট ও পেছনের অংশে লক্ষ্য করা যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

তিনি বলেন, “চাঁদা না পাওয়ার শাস্তি হিসেবে বাড়ির সামনে ও পেছনে গুলি করা হয়েছে। বিদেশে পলাতক সাজ্জাদের নির্দেশে এই ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দুবাইভিত্তিক একটি নম্বর থেকে চাঁদার জন্য ফোন করা হয়েছিল, তবে বাসার কেউ তা মেনে নি।”

পুলিশ সূত্র জানায়, সাজ্জাদ আলী কোটি টাকারও বেশি চাঁদা দাবি করেছিলেন। মুজিবুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, মাস দেড়েক আগে একটি বিদেশি নম্বর থেকে বড় সাজ্জাদের পরিচয় দিয়ে চাঁদার ফোন আসে। তিনি তখন এটি গুরুত্ব দেননি। ঘটনার সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন।

এ বিষয়ে সাজ্জাদ আলী বলেন, “ঘটনাটি কে করেছে তা আমি জানি না। তবে যারা করেছে, তারা ‘ভালো করেছে’। মুজিবুর রহমানকে নিয়ে অভিযোগ আছে যে তিনি আওয়ামী লীগের দোসরদের পুনর্গঠন করছেন।”

এর আগে নগরের পাঁচলাইশ হামজার বাগ এলাকায়, মুরাদপুর-অক্সিজেন সড়কের পাশে একটি নির্মাণাধীন ভবনের মালিকের কাছে চাঁদা না পেয়ে ১৪ ডিসেম্বর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় ভবনের তত্ত্বাবধায়ক নূর মোহাম্মদ থানায় মামলা করেন। পুলিশ অভিযানে অস্ত্র ও গুলিসহ মো. দিদার নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনার সঙ্গে সাজ্জাদের অনুসারীদের জড়িত থাকার প্রাথমিক ধারণা রয়েছে।

পুলিশ জানায়, চাঁদা না পেলে সাজ্জাদের অনুসারীরা গুলি চালায়। চট্টগ্রামের চান্দগাঁও, বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ এবং জেলার হাটহাজারী, রাউজানসহ পাঁচ থানার মানুষদের উপর তাদের দাপটের কারণে আতঙ্ক বিরাজ করে।

গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে জেলায় অন্তত ১০টি হত্যাকাণ্ডে সাজ্জাদের অনুসারীদের নাম উঠে এসেছে। এর মধ্যে একটি জোড়া খুন। তারা নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে প্রতিপক্ষকেও হত্যা করেছে। পুলিশ আরও জানায়, কখনও তারা ভাড়াটে খুনিও হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

Insights News Desk

National

শেয়ার করুন

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *