চাঁদাবাজদের হাতে ক্ষমতা গেলে সংখ্যালঘুরাও নিরাপদ নয়: পরওয়ার

দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজ রাজনীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দখলদার ও চাঁদাবাজদের হাতে ক্ষমতা গেলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জানমালও নিরাপদ থাকবে না।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও একটি মহল চাঁদাবাজি, জমি ও ঘের দখল, সন্ত্রাস এবং লুটপাটে জড়িয়ে পড়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনো রাজনৈতিক আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করে না—এ বিষয়টি জনগণের স্পষ্টভাবে জানা প্রয়োজন।

তিনি অভিযোগ করেন, বাজারে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এমনকি বাদাম বিক্রেতাদের কাছ থেকেও চাঁদা আদায়ের ঘটনা ঘটছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সহিংসতার শিকার হওয়ার নজির রয়েছে, এমনকি পাথর মেরে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ ধরনের শক্তির হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গেলে দেশে আদৌ শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব কি না—সে প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের এই নেতা।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ফ্যাসিবাদী শক্তি ক্ষমতায় নেই। কিন্তু এরপর যারা দখলদারি ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে, তারা জনগণের রাজনীতির প্রতিনিধি হতে পারে না।

তিনি এসব অনিয়ম ও অপরাধের বিরুদ্ধে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, ডুমুরিয়া উপজেলা আমির মাওলানা মোক্তার হোসেন, উপজেলা নায়েবে আমির গাজী সাইফুল্লাহ, মাওলানা হাবিবুর রহমানসহ জামায়াত ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা। পাশাপাশি স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।

গণসংযোগ শেষে মিয়া গোলাম পরওয়ার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া ইউনিয়নের আঙ্গারদহা এলাকায় বিদ্যুতের শর্ট সার্কিটজনিত অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি বসতবাড়ি পরিদর্শন করেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষ্ণ কুন্ডু, রাজু কুন্ডু ও গপি কুন্ডুর পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের প্রতি সমবেদনা ও সান্ত্বনা জানান।

কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভোট দেওয়ার সময় বিবেক দিয়ে বিচার করতে হবে—কে দুর্নীতিমুক্ত, কে সাধারণ মানুষের ক্ষতি করেনি, কে সন্ত্রাস ও দখলদারির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।

চাঁদাবাজ ও দখলদার শক্তির হাতে আর যেন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা না যায়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ আমানত সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত মানুষের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানান জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা।

Insights News Desk

National


SEO-Friendly Title (Bangla)

শেয়ার করুন

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *