জামায়াত জোট ইস্যুতে এনসিপিতে ভাঙনের শঙ্কা: ৩০ নেতার একযোগে পদত্যাগের হুমকি

জামায়াত জোট নিয়ে দ্বন্দ্ব: এনসিপির ভেতরে তীব্র অসন্তোষ

জামায়াত জোট ইস্যুতে এনসিপিতে ভাঙনের শঙ্কা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্ভাব্য রাজনৈতিক জোটের বিষয়টি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ভেতরে বড় ধরনের সংকট তৈরি করেছে। দলটির ৩০ জন প্রতিষ্ঠাতা নেতা একযোগে পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন, যদি নেতৃত্ব এই জোটের পথে এগোয়।

দলীয় আহ্বায়ক বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে নেতারা স্পষ্ট করে বলেন, জামায়াতের রাজনৈতিক অতীত—বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা ও গণহত্যায় সংশ্লিষ্টতা—বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনা এবং এনসিপির ঘোষিত আদর্শের সঙ্গে মৌলিকভাবে সাংঘর্ষিক।

চিঠিতে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক জুলাই অভ্যুত্থানের পর জামায়াত ও তাদের ছাত্র সংগঠন শিবির বিভাজনমূলক রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অন্য রাজনৈতিক দলে গুপ্তচরবৃত্তি, এনসিপির নারী নেত্রীদের বিরুদ্ধে চরিত্রহননের অভিযোগ এবং ধর্মভিত্তিক সামাজিক ফ্যাসিবাদের ক্রমবর্ধমান হুমকি।

স্বাক্ষরকারীরা মনে করেন, গণঅভ্যুত্থান থেকে জন্ম নেওয়া একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে এনসিপির দায়িত্ব হলো এমন এক পথ দেখানো, যেখানে মানবাধিকার, ধর্মীয় সহনশীলতা, সমান মর্যাদা, সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন থাকবে।

নেতৃত্বের সাম্প্রতিক অবস্থান নিয়েও তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে চিঠিতে। ১২৫ জন প্রার্থীকে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর হঠাৎ করে জোটের পথে হাঁটার বিষয়টিকে তারা ‘ইউটার্ন’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁদের ভাষায়, “মাত্র কয়েকটি আসনের বিনিময়ে এমন জোট গঠন জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।”

এই বিতর্কের তাৎক্ষণিক প্রভাব ইতিমধ্যে দেখা যাচ্ছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। সম্ভাব্য জোটের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দলের কিছু সমর্থক ইতিমধ্যে সমর্থন প্রত্যাহার করেছেন। এতে করে ভবিষ্যতে এনসিপির মধ্যপন্থী ভোটব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন নেতারা। তাঁদের মতে, এতে দলের নিজস্ব কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে।

চিঠির শেষাংশে নেতারা কৌশল ও আদর্শের সম্পর্ক নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানান। তাঁদের বক্তব্য, রাজনৈতিক কৌশল কখনোই নীতিগত অবস্থানের ওপরে স্থান পেতে পারে না। একই সঙ্গে তাঁরা দলীয় শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখেই নিজেদের আপত্তি জানাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন।

এই পরিস্থিতিতে জামায়াত জোট ইস্যু এনসিপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

Insights News Desk

National

শেয়ার করুন

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *