
নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে দলবল নিয়ে হঠাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকে উপস্থিত হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মির্জা আব্বাস। সোমবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রবেশ করেন এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজের পক্ষে ভোট ও দোয়া চান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো কেপিআইভুক্ত (Key Point Installation) প্রতিষ্ঠানে এভাবে দলবল নিয়ে কোনো প্রার্থীর উপস্থিতির ঘটনা নজিরবিহীন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনাও দেখা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, সোমবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি অভ্যন্তরীণ গ্রুপে আলী আসগর নামের একজন কর্মকর্তা মির্জা আব্বাসের আগমনের তথ্য জানান। সেখানে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনী উদ্দেশ্যে তিনি সবুজ দল, জিয়া পরিষদ ও কর্মচারী সমিতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে আসবেন।
নির্ধারিত সময়ের কিছু আগে মির্জা আব্বাস গভর্নর ভবনের তৃতীয় তলায় যান। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা নিরাপত্তা প্রহরীদের অনুরোধ উপেক্ষা করে ওপরে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি কিছুটা অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। পরে অনুরোধের পর ১০ জন নেতাকর্মী ওপরে যান এবং বাকিরা নিচতলায় অপেক্ষা করেন।
গভর্নর ভবনের ওই তলায় গভর্নর, চার ডেপুটি গভর্নর এবং কয়েকজন নির্বাহী পরিচালকের দপ্তর রয়েছে। গভর্নর বৈঠকে থাকায় তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়নি। তবে চার ডেপুটি গভর্নর ও একজন নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মির্জা আব্বাস। সাক্ষাৎকালে তিনি সবার কাছে ভোট ও দোয়া প্রার্থনা করেন।
প্রায় ৩০ মিনিট পর সেখান থেকে বের হয়ে নিচে নামলে আবারও নেতাকর্মীরা তাঁকে ঘিরে ধরেন। এরপর তিনি ৩০তলা ভবনের তৃতীয় তলায় যান, যেখানে জিয়া পরিষদের জন্য নির্ধারিত একটি কার্যালয়ে বিএনপিপন্থি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা জানান, সেখানে মির্জা আব্বাস ভোট ও দোয়া চাওয়ার পাশাপাশি কর্মকর্তাদের নিজ নিজ আবাসিক এলাকায় তাঁর পক্ষে ভোট চাওয়ার অনুরোধ করেন। তিনি দাবি করেন, ঢাকা-৮ আসন তাঁর পারিবারিক এলাকা এবং এলাকার মানুষ তাঁকে ভালোভাবেই চেনে।
বৈঠক শেষে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন ফ্লোরে গিয়ে ভোট চাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে কর্মকর্তারা অফিস সময়ের শৃঙ্খলা ও ভোটার এলাকার সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে এতে আপত্তি জানান। পরে তিনি দলবল নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ত্যাগ করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক চত্বর ছাড়ার পর মির্জা আব্বাস ও তাঁর নেতাকর্মীরা সড়কের উল্টো পাশে অবস্থিত সোনালী ব্যাংক ভবনে যান।
Insights News Desk
National