
আমন মৌসুমে ধান ও চাল সংগ্রহকে কেন্দ্র করে খুলনা বিভাগে ব্যাপক অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতি কেজি ধান ও চালে ১০ পয়সা থেকে ১ টাকা পর্যন্ত ঘুষ আদায় করা হচ্ছে, যা দিতে বাধ্য হচ্ছেন মিল মালিক ও গুদাম কর্মকর্তারা।
খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় চলমান এই সংগ্রহ অভিযানে অতিরিক্ত বরাদ্দের নামে বড় অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, দাবি করা অর্থ না দিলে বদলি, বরাদ্দ কমানোসহ নানা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
চলতি আমন মৌসুমে বিভাগের চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৭ হাজার ২৫৩ টন, যা পরে বাড়িয়ে ১ লাখ ১৩ হাজার ৮৮৬ টন করা হয়। ধানের বাজারদর কম থাকায় মিলাররা কিছুটা লাভবান হলেও সেই লাভের একটি অংশ কমিশন হিসেবে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
প্রথম দফায় ৬ হাজার ৩১৩ টন ধান সংগ্রহ করা হয়। পরে বিশেষ বরাদ্দের নামে আরও ২৬ হাজার টনের বেশি ধান কেনা হয়। অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত বরাদ্দের ধানে প্রতি কেজিতে ১ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা, যশোর ও সাতক্ষীরা জেলায় সবচেয়ে বেশি ধান সংগ্রহ হয়েছে। চুয়াডাঙ্গার কয়েকটি গুদামে ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি ধান ও চাল মজুদের তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, কৃষকদের নামে ধান কেনা দেখালেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে সেই কৃষকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
কিছু গুদাম কর্মকর্তা জানান, তারা চাপের মুখে পড়েছেন। অর্থ না দিলে শাস্তি বা বদলির আশঙ্কা থাকায় অনেকেই ঋণ করে টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের দাবি, অতীতে এভাবে কেজি ধরে কমিশন নির্ধারণ করে অর্থ আদায়ের নজির ছিল না।
অভিযোগে উঠে এসেছে, যেসব জেলা বা মিল মালিক সহযোগিতা করছেন, সেখানে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি সীমিত ধারণক্ষমতার গুদামেও কয়েক গুণ বেশি ধান ও চাল কেনা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে খুলনা আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে সহকারী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক পরিতোষ কুমার কুণ্ডু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সংগ্রহ কার্যক্রম স্বচ্ছভাবে হয়েছে এবং সব বিল অ্যাকাউন্ট পে চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছে।


Leave a Reply