বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জ বেড়ে ৪২ হাজার কোটি টাকা

বিতর্কিত ক্যাপাসিটি চার্জের চাপ এখনো দেশের বিদ্যুৎ খাতে বড় আর্থিক বোঝা হয়ে রয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া বা ক্যাপাসিটি চার্জ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার কোটি টাকায়, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বেশি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ব্যয় কমাতে অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও সামগ্রিক উৎপাদন খরচ কমানো সম্ভব হয়নি। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের গড় খরচ বেড়ে হয়েছে ১২ টাকা ৩৪ পয়সা, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ বেশি।

পিডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করেছে। গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্যাসভিত্তিক উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে, ফলে তুলনামূলক ব্যয়বহুল তেল ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। পাশাপাশি ডলারের বিনিময়মূল্য বৃদ্ধি এবং জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় না হওয়ায় অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি সব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন হোক বা না হোক, পিডিবিকে ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করতে হয়। বর্তমানে দেশে ১৩৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে, যার মধ্যে ৬৮টি বেসরকারি। বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর অধিকাংশ বিল ডলারে নির্ধারণ করা হয়, যা ডলারের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।

পিডিবির হিসাব অনুযায়ী, ২০২২–২৩ অর্থবছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ২৪ হাজার ৯১১ মেগাওয়াট এবং ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয়েছে ২৫ হাজার কোটি টাকা। পরের অর্থবছরে সক্ষমতা বাড়লেও কেন্দ্রভাড়া বেড়ে দাঁড়ায় ৩২ হাজার কোটি টাকায়। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে উৎপাদন সক্ষমতা কিছুটা কমলেও কেন্দ্রভাড়া বেড়ে হয় ৪২ হাজার কোটি টাকা।

জাতীয় পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে প্রায় ৭ হাজার ৭০০ থেকে সাড়ে ৯ হাজার মেগাওয়াট অতিরিক্ত বা অলস বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। এই অলস সক্ষমতার জন্য প্রতিবছর ৯০ থেকে ১৫০ কোটি ডলার পর্যন্ত ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে, যা বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক সংকটকে আরও গভীর করছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখার ফলেই এই ব্যয় লাগামছাড়া হচ্ছে। সাধারণভাবে একটি দেশের জন্য ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ রিজার্ভ মার্জিন গ্রহণযোগ্য হলেও বাংলাদেশে তা ৫০ শতাংশের বেশি।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা জানিয়েছেন, ক্যাপাসিটি চার্জ কমাতে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে চুক্তি পুনর্বিবেচনার প্রক্রিয়া চলছে। পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

এদিকে উৎপাদন খরচ বাড়লেও গত দেড় বছরে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি। ফলে পিডিবির লোকসান ও সরকারি ভর্তুকির চাপ বেড়েছে। সর্বশেষ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৯ হাজার কোটি টাকায়।

Insights News Desk

National

শেয়ার করুন

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *