
কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের অভিযোগ করেছেন, ভারতের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী একটি রাজনৈতিক দলের প্রধানের তিনটি চুক্তির খবর বিদেশি একটি পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্ট দলটির পক্ষ থেকে এর কোনো প্রতিবাদ জানানো হয়নি।
নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনে বৃহস্পতিবার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ছুফুয়া এলাকায় আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। তাহের দাবি করেন, প্রতিবেদনে তিনটি শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পুনর্বাসন, বাংলাদেশের অস্ত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে ভারতের অনুমতি নেওয়া এবং দেশীয় ইসলামপন্থী দলগুলোর ওপর দমনমূলক ব্যবস্থা।
তিনি বলেন, এ ধরনের একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পরও প্রতিদ্বন্দ্বী দলের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিবাদ বা ব্যাখ্যা আসেনি, যা জনমনে প্রশ্ন তৈরি করছে। তাহেরের মতে, জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান স্পষ্ট থাকা জরুরি।
সমাবেশে তাহের আরও বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি দখলের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বরং যারা নিজেদের ভারতের ঘনিষ্ঠ হিসেবে উপস্থাপন করে, তারাই এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে তিনি দাবি করেন।
দশ দলীয় জোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি এখন একটি বিস্তৃত রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের খেতাবপ্রাপ্ত ব্যক্তি, ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ এবং বড় ইসলামিক দলগুলো একত্রিত হয়েছে। দেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তার স্বার্থে যোগ্য ও সৎ প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে তাহের বলেন, আসন্ন নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথ নির্ধারণ করবে—দেশ কি আবার চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের দিকে যাবে, নাকি গণতান্ত্রিক অধিকার ও সমতার পথে এগোবে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চৌদ্দগ্রাম সরকারি কলেজের সাবেক জিএস খলিলুর রহমান মজুমদার। এতে আরও বক্তব্য দেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সাবেক আমির আবদুস সাত্তার, উপজেলা জামায়াতের আমির মু. মাহফুজুর রহমানসহ স্থানীয় নেতারা।
নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে তাহের ছুফুয়া বাজারসহ আশপাশের এলাকায় গণসংযোগ করেন এবং ভোটারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
Insights News Desk
National


Leave a Reply