
প্রশাসন বিএনপির পক্ষপাতিত্ব করছে বলে অভিযোগ এনসিপি প্রার্থীর
কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ দাবি: প্রশাসন বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে
এই মন্তব্য তিনি করেছেন মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে। যাচাই-বাছাই শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান হাসনাত আবদুল্লাহর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “গণ–অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে প্রশাসনের নির্মোহ, বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ আচরণের প্রত্যাশা ছিল। তবে এখানে এসে নির্বাচনে প্রশাসন কতটা নিরপেক্ষ থাকবে, তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।”
তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বিরুদ্ধে ব্যাংকের ঋণখেলাপের অভিযোগ রয়েছে। হাসনাত অভিযোগ করেন, মুন্সী অতীতে একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েও তা ফেরত দেননি এবং হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশের তথ্যও গোপন করেছেন। নির্বাচন আচরণবিধিতে স্পষ্টভাবে বলা আছে, কোনো প্রার্থী যদি হলফনামায় তথ্য গোপন করেন, তবে তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের বিধান রয়েছে।
হাসনাত আবদুল্লাহ দাবি করেন, এসব পর্যাপ্ত তথ্য থাকা সত্ত্বেও রিটার্নিং কর্মকর্তা অভিযোগগুলো আমলে নেননি। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, প্রশাসন বিএনপির দিকে ঝুঁকে গেছে। এই দ্বিচারিতামূলক আচরণের মধ্যে নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ হবে, তা নিয়ে আমরা শঙ্কিত।”
তিনি আরও বলেন, “কিছু রাজনৈতিক দল প্রশাসন ও পুলিশকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। জুলাই গণ–অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন স্থানে হামলা হয়েছে। প্রকাশ্যে হাদি ভাইকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। স্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এটি প্রশাসনের গাফিলতির বিষয়।”
বৃহস্পতিবার জাহাঙ্গীর আলম নামের একজন ব্যক্তি অভিযোগ তোলেন, বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী হলফনামায় তথ্য গোপন করেছেন। জাহাঙ্গীর আলম হাসনাত আবদুল্লাহর অনুসারী বলে জানা গেছে।
বেলা ২টা ৫০ মিনিটে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় হাসনাত আবদুল্লাহ ও তার আইনজীবী বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। এসময় জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে প্রায় এক ঘণ্টা হট্টগোল চলতে থাকে। দুই পক্ষই নিজেদের দাবির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসনাত আবদুল্লাহ ও তার আইনজীবী অভিযোগ তোলেন, বিএনপি প্রার্থীর হলফনামায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দায়ের তথ্য লুকানো হয়েছে। তারা বলেন, মুন্সী ব্যাংকের ঋণখেলাপি হওয়ার পরও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হাইকোর্ট থেকে তিন মাসের স্থগিতাদেশ পেয়েছেন, যা হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি।
মুন্সীর আইনজীবী এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, বিএনপি প্রার্থীর ব্যক্তিগত কোনো দায় নেই। তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিষয়টি কেন্দ্র করে উচ্চ আদালতে স্থগিতাদেশ আবেদন করেছেন, যা তিন মাসের জন্য মঞ্জুর করা হয়েছে। আইনজীবী দাবি করেন, এটি প্রার্থী ব্যক্তির কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয় এবং তিনি যথাযথ নিয়ম মেনে হলফনামায় তথ্য দিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দুই পক্ষকে বারবার শান্ত থাকার আহ্বান জানান। প্রায় এক ঘণ্টার উত্তেজনার পর রিটার্নিং কর্মকর্তা বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, যদি কোনো পক্ষ সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট থাকে, তারা নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন।
Insights News Desk
National