হাদি হত্যা মামলা: রিমান্ড শেষে রুবেলের স্বীকারোক্তি

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় দুই দফা রিমান্ড শেষে ফয়সাল রুবেল আহমেদ (৩৩) আদালতে দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) রুকনুজ্জামান।

প্রসিকিউশনের তথ্যমতে, ৯ দিনের রিমান্ড শেষে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রুবেলকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি ঢাকা মেট্রো (পূর্ব) শাখার সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা। রুবেল স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি দিতে সম্মত হলে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে আবেদন করেন।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমান তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। শুনানি শেষে রুবেলকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে গত ২১ জানুয়ারি রাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আটি নয়াবাজার এলাকা থেকে ডিবি পুলিশের সহায়তায় রুবেলকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। পরদিন আদালত তাকে ছয় দিনের রিমান্ডে পাঠান। পরে আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

জুলাই অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মাধ্যমে পরিচিত শরীফ ওসমান হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগে গেলে চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় তাকে গুলি করা হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় হাদিকে। এরপর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলায় হত্যা (৩০২) ধারা যুক্ত হয়। তদন্ত শেষে ডিবি পুলিশ ৬ জানুয়ারি ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, রাজনৈতিক বিরোধ ও আসন্ন নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে মামলার বাদী অভিযোগপত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালতে নারাজি দাখিল করলে পরে মামলার তদন্তভার সিআইডির কাছে ন্যস্ত করা হয়।

শেয়ার করুন

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *