
যৌন অপরাধের দায়ে দণ্ডিত ও পরে কারাগারে মৃত্যুবরণ করা জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত বিপুল নথিতে তাঁর আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, বিশেষ করে ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও গোয়েন্দা মহলের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নতুন তথ্য উঠে এসেছে।
নথিপত্রে দেখা যায়, সাবেক ও বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট, প্রভাবশালী ধনকুবের এবং রাজপরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এপস্টেইনের যোগাযোগ আগেই আলোচিত ছিল। তবে সর্বশেষ প্রকাশিত নথিতে ইসরায়েলের রাজনৈতিক, গোয়েন্দা ও কূটনৈতিক অভিজাতদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি নতুন করে নজরে এসেছে।
এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছেন ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক। নথিতে উল্লেখ রয়েছে, ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে বারাক ও তাঁর স্ত্রী একাধিকবার নিউইয়র্কে এপস্টেইনের অ্যাপার্টমেন্টে অবস্থান করেন। ই-মেইল যোগাযোগে এপস্টেইনের সহকারী ওই সফর ও আবাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় সমন্বয় করতেন বলে উল্লেখ আছে।
এহুদ বারাক স্বীকার করেছেন যে তিনি ২০০৩ সাল থেকে এপস্টেইনকে চিনতেন এবং ২০০৮ সালে অপ্রাপ্তবয়স্ককে যৌন নিপীড়নের মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পরও যোগাযোগ বজায় ছিল। তবে তিনি কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন।
২০১৯ সালের ১০ আগস্ট নিউইয়র্কের একটি কারাগারে এপস্টেইনের মৃত্যু হয়। সে সময় তাঁর বিরুদ্ধে যৌন উদ্দেশ্যে মানব পাচারের অভিযোগে বিচার চলছিল। এর আগেও তিনি যৌন নিপীড়নের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন এবং যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন।
নতুন প্রকাশিত নথির মধ্যে রয়েছে ২০২০ সালের একটি এফবিআই স্মারক। সেখানে এক গোপন সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়েছে, এপস্টেইনের সঙ্গে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার যোগাযোগ থাকতে পারে এবং তিনি মোসাদের জন্য কাজ করতেন—এমন ধারণা তদন্তে উঠে এসেছিল। স্মারকে বলা হয়, এসব অভিযোগ বিচারিক রায় নয় এবং যাচাইযোগ্য প্রমাণের ওপর নয়, তবে বিষয়টি তদন্তকারীরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছিলেন।
এফবিআই নথিতে আরও উল্লেখ আছে, এপস্টেইন ও এহুদ বারাকের মধ্যে ই-মেইল যোগাযোগে গোয়েন্দা সংস্থার প্রসঙ্গ উঠে আসে। এক বার্তায় এপস্টেইন নিজেকে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত নন—এ কথা প্রকাশ্যে স্পষ্ট করার অনুরোধ জানান।
এপস্টেইন কাণ্ডে ২০০৮ সালের বিতর্কিত সমঝোতা চুক্তিও আবার আলোচনায় এসেছে। ওই চুক্তির ফলে তিনি সম্ভাব্য আজীবন কারাদণ্ডের বদলে সীমিত সাজা পান। পরে এই চুক্তি নিয়ে সমালোচনার মুখে তৎকালীন মার্কিন শ্রমমন্ত্রী আলেক্সান্ডার অ্যাকোস্টা ২০১৯ সালে পদত্যাগ করেন।
নথিতে আরও দেখা যায়, এপস্টেইন সংক্রান্ত তদন্ত ও কেলেঙ্কারিতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম বহুবার এসেছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি এবং তিনি সব ধরনের অনিয়মের কথা অস্বীকার করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নথিপত্র এপস্টেইন কাণ্ডকে কেবল ব্যক্তিগত অপরাধের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, কূটনীতি ও গোয়েন্দা তৎপরতার জটিল প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।


Leave a Reply