
সরকার র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) নাম ও পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে কালো পোশাকের র্যাব আর থাকবে না এবং বাহিনীটি নতুন নামে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। পরে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, র্যাবের নতুন নাম হবে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)। নাম ও পোশাকের পাশাপাশি বাহিনীর কাঠামো ও কার্যক্রমেও সংস্কার আনার কথা জানানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, র্যাব পুনর্গঠন বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবদুল হাফিজের নেতৃত্বে একটি কমিটি কাজ করেছে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি আরও বলেন, শিগগিরই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। প্রজ্ঞাপন কার্যকর হলে নতুন নাম ও কাঠামো নিয়ে বাহিনীটি কার্যক্রম শুরু করবে।
বিএনপি–জামায়াত জোট সরকারের আমলে প্রায় দুই দশক আগে সন্ত্রাস দমনের উদ্দেশ্যে পুলিশের বিশেষ ইউনিট হিসেবে র্যাব গঠন করা হয়। এতে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী, বিজিবিসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা যুক্ত ছিলেন।
র্যাবের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের প্যারেডের মাধ্যমে বাহিনীটির আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে। ওই বছরের ১৪ এপ্রিল রমনা বটমূলে পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা দেওয়ার মধ্য দিয়ে এর প্রথম অপারেশনাল দায়িত্ব শুরু হয়। পরে ২১ জুন থেকে র্যাব পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম চালু করে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে র্যাব বিভিন্ন সময় সমালোচনার মুখে পড়ে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো বাহিনীটি বিলুপ্তির দাবি জানিয়ে আসছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের গুম–সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনও র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করেছিল।
তবে সরকার বিলুপ্তির পথে না গিয়ে নাম ও পোশাক পরিবর্তনের মাধ্যমে সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে পুলিশ বাহিনীর পোশাকেও পরিবর্তন আনা হয়।
নির্বাচনের আগে অস্ত্র উদ্ধার
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সশস্ত্র বাহিনী বিভিন্ন অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে।
সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের মহাপরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড প্ল্যান) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আলী হায়দার সিদ্দিকী জানান, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ১৯৯টি অস্ত্র ও ১ হাজার ৯৭২টি গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ১ হাজার ৮০৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ছাড়া পুলিশ ও র্যাবের হারানো অস্ত্রের মধ্যে ৪ হাজার ৪৩২টি এবং কারা কর্তৃপক্ষের খোয়া যাওয়া ৬৫টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় সারা দেশে সশস্ত্র বাহিনীর ১ লাখ ৬ হাজার ২২৩ জন সদস্য মোতায়েন রয়েছেন বলে জানানো হয়।
ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনি, পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


Leave a Reply